ডিজাইন এবং বিল্ড বনাম ট্রেডিশনাল কনস্ট্রাকশন

অফিস স্থানান্তর অথবা পুনঃর্বিন্যাস, যেটাই করেন না কেন সামগ্রিক পরিকল্পনা, স্পেসের নকশা এবং কনস্ট্রাশনের লোক আপনার দরকার হবে। পুনঃর্বিন্যাসের সঠিক পদ্ধতি নির্বাচন আপনার প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী চুড়ান্ত ফলাফলের উপর প্রভাব ফেলে। অফিস শুরু, স্থানান্তর বা পুনঃর্বিন্যাস করার আগে ডিজাইন এবং বিল্ড বনাম ট্রেডিশনাল কনস্ট্রাকশন এর মধ্যে পার্থক্যগুলো ভালভাবে জেনে নেয়া উচিৎ।

 

ট্রেডিশনাল কনস্ট্রাকশন পদ্ধতি কি?

ট্রেডিশনাল কনস্ট্রাকশন পদ্ধতিটি প্রোজেক্টের নকশা, বিড এবং বিল্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। এই প্রক্রিয়ায়, প্রকল্পের মালিক একজন আর্কিটেক্ট, ইন্টেরিয়র ডিজাইন কোম্পানী অথবা নির্মান ঠিকাদারের থেকে আলাদা আলাদা ভাবে প্রোজেক্টের বিড সংগ্রহ করে থাকে। প্রথমেই, প্রকল্প মালিক একটি ডিজাইন প্রতিষ্ঠান তেকে কমপ্লিট ডিজাইন ডকুমেন্টস সংগ্রহ করে থাকে। এরপরে, তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে দরপত্র আহ্বান করে তাদের মধ্যে যে সর্বনিম্ন বাজেট দেয় তাদেরকে কাজটি দিয়ে থাকে।

 

ডিজাইন এবং বিল্ড পদ্ধতি কি?

এই আধুনিক পদ্ধতিতে, প্রকল্প মালিক একটি সিঙ্গেল কোম্পানীকে একক চুক্তির অধীনে ডিজাইন এবং বিল্ড উভয় কাজ সম্পাদন করে থাকে।

 

আপনার প্রজেক্টের এর জন্য সঠিক পদ্ধতি নির্বাচন?

ডিজাইন এবং বিল্ড পদ্ধতিটি কাজের মান, ফিনিশিং এবং সঠিক সময়ে ডেলিভারির নিশ্চয়তা প্রদান করে থাকে। ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগীতার বাজারে আমরা মতামত দিতে পারি যে, এখনকার ট্রেন্ডে বেশিরভাগ কোম্পানী ডিজাইন এবং বিল্ড পদ্ধতিতে তাদের প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করছে।

 

তবে এখানে উল্লেখযোগ্য যে, অপেক্ষাকৃত কমপ্লেক্স প্রযেক্ট, যেখানে বিভিন্ন পার্টের আলাদা আলাদা কোম্পানীর কাজের প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে ট্রেডিশনাল পদ্ধতি ভাল। যদিও, ডিজাইন এবং বিল্ড পদ্ধতির অগ্রযাত্রায় এখন একটি প্রোজেক্টে এর সব ধরনের সেবা দেয়া সম্ভব, ইন্টেরিয়র স্কেচ এ অামরা কাজ করে যাচ্ছি যা ৩৫০০ থেকে ৪৫০০ স্কয়ার ফিট সাইজও অতিক্রম করছে।

 

যখন আপনি সিদ্ধান্ত নিতে যাবেন, কোন পদ্ধতিটি অবলম্বন করা উচিৎ তখন ডিজাইন এবং বিল্ড এবং ট্রেডিশনাল পদ্ধতির মধ্যে পার্থ্যক্য ও মিলগুলো বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন।

 

ট্রেডিশনাল

ডিজাইন এবং বিল্ড

খরচ নির্মান খরচ প্রথমিকভাবে অজানা – পরে ধাপে ধাপে খরচের ধারনা পাওয়া যায়। নির্মান খরচ প্রাথমিকভাবে রিলিজ করা হয় – এরপর ডিজাইন অনুযায়ী তা বাড়ানো কমানো সম্ভব।
নিয়ন্ত্রন প্রকল্প মালিক, নকশা এবং নির্মানের উপর নিয়ন্ত্রন রাখে। প্রকল্প মালিকের কোন প্রকার রিসোর্স এবং দক্ষতার প্রয়োজন হয় না।
সময় নকশা এবং নির্মান একটি সিকুয়েন্স অনুযায়ী ক্রমান্বয়ে হয়, সাধারনত দীর্ঘ সময় ব্যায় হয়। ডিজাইন এবং নির্মান সময়সুচি ওভারল্যাপ করতে পারে।
ঝুঁকি ঠিকাদারের কর্মক্ষমতার ঝুঁকি প্রকল্প মালিক বহন করে। একটি চুক্তির মাধ্যমে, কাজের দক্ষতার দায়ভার একটি নির্দিষ্ট টিম বহন করে।
ডিজাইন সমমানের ক্যাপাবিলিটি সমমানের ক্যাপাবিলিটি
যোগাযোগ প্রতিটি কোম্পানীর জন্য আলাদা ভাবে যোগাযোগ রক্ষা করা হয়। একটি সিঙ্গেল ইমেইল/ফোন কলে পুরো টিমের সাথে যোগাযোগ রক্ষা।
কোয়ালিটি সমমানের ক্যাপাবিলিটি সমমানের ক্যাপাবিলিটি
ভ্যালু ঠিকাদার কাজ শেষ করার পরে প্রকৌশলী মুল্যায়ন পেয়ে থাকেন। প্রকল্পের শুরুতে মূল্যায়ন পাওয়া যায়।

 

ডিজাইন এবং বিল্ড বনাম ট্রেডিশনাল কনস্ট্রাকশন

নির্মান প্রোজেক্টের জন্য দুটো পদ্ধতিই দরকার হয়, আর এটি নির্ভর করে ব্যাবসার ধরন এবং প্রোজেক্টের রিকয়ারমেন্ট অনুযায়ী। প্রোজেক্টের মালিক যার যথেষ্ট পরিমানে বাজেট এবং সার্বক্ষনিক ম্যানেজ করার সময় থাকবে তার জন্য ট্রেডিশনাল পদ্ধতি ভাল।

 

যদিও, ডিজাইন এবং বিল্ড পদ্ধতিটি আমাদের দেশে ক্রমান্বয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কারন, সবাই এখন ওয়ার্কপ্লেস ট্রেন্ডে ঢুকে পড়েছে এবং বেশিরভাগই চাচ্ছেন পুরো প্রোজেক্টটি একটি কোম্পানীর সাথে চুক্তির মাধ্যমে হোক।

 

  • প্রথমেই প্রোজেক্ট বাজেটের নিশ্চয়তা।
  • একটি নির্দিষ্ট পয়েন্টে দ্বায়িত্ব প্রদান।
  • একক প্রকৌশলীদের মূল্যায়নের সুযোগ।
  • দ্রুত ডেলিভারি।

 

সংক্ষেপে, ডিজাইন এবং বিল্ড পদ্ধতিটি প্রকল্পের মানদন্ড বিচারে এগিয়ে থাকবে। বর্তমান বাজার চাহিদা, ভাল সার্ভিস এবং কোম্পানীর জবাবদিহীতার বিবেচনায় ডিজাইন এবং বিল্ড পদ্ধতিই সেরা।

তথ্যসুত্র: Oktra

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *